ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি
ফ্রন্টেক্সের মতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৫ শতাংশ কম।
ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি
ফ্রন্টেক্সের মতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ জনের অবৈধ প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১৫ শতাংশ কম।
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রথম নয় মাসে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ জনের অবৈধ প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ শতাংশ কম। এ পথে আসা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি, আলজেরীয় ও সোমালি নাগরিক। এ পথে সাধারণত লিবিয়া থেকে অভিবাসীরা যাত্রা শুরু করেন। এ সমুদ্রপথে আসা মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লিবিয়া থেকে যাত্রা করলেও তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া থেকেও অনেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
কমেছে যাত্রা, রয়ে গেছে প্রাণহানির ঝুঁকি
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা কমলেও সমুদ্রপথে প্রাণহানির ঝুঁকি আগের মতোই রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ও চলাচলের অনুপযোগী নৌকায় তুলে দেয়। ফলে সমুদ্রযাত্রায় তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থেকে এসব চক্র সুযোগ বুঝে অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাও হাতিয়ে নেয়।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস বলেন, ইউরোপে প্রবেশের অধিকাংশ অবৈধ চেষ্টা কমেছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। মানবপাচারকারী চক্রগুলোর কার্যক্রম কমে গেলেও তারা তা বন্ধ করে না, বরং নতুন সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।
নতুন নীতি ও সীমান্তে নজরদারি
২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এ চুক্তিতে ইইউর সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যাচাইয়ের জন্য একক ও মানসম্মত প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এতে আগত ব্যক্তিদের জাতীয়তা নির্ধারণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। এসব কাজে সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা করছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা।
পরিচয় যাচাইয়ের পর ইউরোপে যাদের আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হবে, তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই আইনের আওতায় গত কয়েক দিনে প্রায় ৫৪ বাংলাদেশিকে গ্রিস ও ইতালি থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।