Logo
প্রিন্টের তারিখ: 28 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 28, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, মাদ্রাসা শিক্ষকই নবজাতকের বাবা

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, মাদ্রাসা শিক্ষকই নবজাতকের বাবা

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল।

পিপি নুরুল কবীর বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই পুলিশ আদালতে আবেদন করে। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফহোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে ওই নমুনার সঙ্গে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ NMIM NEWS
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF