অভিযুক্তরা ঢাকা মিন্টু রোডের পুলিশ পরিচয় দিলেও অভিযোগ উঠেছে সাভারের ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের চার সদস্যের বিরুদ্ধে। তারা পরিচয় গোপন করে এ কাজ করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশের এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী এবং মো. মাহবুব, সোর্স মো. আমিনুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন।
ভুক্তভোগী ওই নারী পোশাক শ্রমিকের অভিযোগ গ্রেফতারের পর ডিবি পুলিশ নগদ ১৫ হাজার টাকা ঘুস নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী রুমা আক্তার বন্যা ঢাকা জেলা ডিবি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত ১১টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল হাজী আলাউদ্দিন স্কুলসংলগ্ন নিজ বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন রুমা আক্তার বন্যা। এ সময় ঢাকা মিন্টু রোডের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এসআই নাফিউল ইসলাম, এএসআই আব্দুস সালাম, কনস্টেবল মো. আইয়ুব আলী, মো. আমিনুল ও মো. মাহাবুবসহ কয়েকজন তার বাসায় প্রবেশ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, তার স্বামী আরিফ হোসেনকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়ে ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশিতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। এরপরও ভুক্তভোগীকে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই টিমে থাকা এসআই নাফিউল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারীর গ্রামের বাড়ি জামালপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশ থেকে ১৫ হাজার টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ডিবি পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা চলে যাওয়ার পর তিনি ঘরে ঢুকে মালামাল এলোমেলো দেখতে পান। পরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে থাকা একটি ব্যাগে গচ্ছিত তিনটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের চেইন (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেগুলো ডিবির লোকজন লুটে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পোশাক শ্রমিক বন্যার অভিযোগ, তল্লাশির সুযোগে তার অনুপস্থিতিতে ওই স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনটি ডিবি সদস্যরাই নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এসআই নাফিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে ঢাকা জেলা ডিবির (উত্তর) ওসি সাইদুল ইসলাম সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগী নারীও আমার কাছে এসেছিলেন। পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ডিবির ওই টিমের সঙ্গে থাকা সোর্স মো. আমিনুল এ ধরনের স্বর্ণালংকার লুটের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে কিন্তু ঘটনার পর থেকে সোর্স আমিনুল লাপাত্তা হয়ে যায়। পুলিশ তাকেও খুঁজছে।
তিনি আরও বলেন, ডিবির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আজকে পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো তদন্ত কমিটি বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে ডিবির এই অফিসার জানান।