ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধাশ্রম খুলে ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস কারাদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 114
বৃদ্ধাশ্রম খুলে ৬৪ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস কারাদণ্ড ছবির ক্যাপশন : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাস কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে প্রবীণদের সেবার নামে সরকারি তহবিল লুটের এক চতুর জালিয়াতির তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সহায়তার জন্য তৈরি মেডিকেয়ার কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের অপরাধে জাকিয়া খান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে ৭৬ মাসের বা সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের আদালত কক্ষে বিচারক নাতাশা সি মার্ল এই রায় দেন।

আদালতের তথ্য থেকে জানা যায় লোভ ও প্রতারণার এক অবিশ্বাস্য গল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল’ নামে দুটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র চালাতেন জাকিয়া। এর পাশাপাশি বাসায় গিয়ে সেবা দেওয়ার আড়ালে ‘রেসপন্সিবল কেয়ার স্টাফিং’ এবং বেআইনি টাকা লুকিয়ে ফেলার জন্য ‘তানভী সার্ভিসেস’ নামের আরও দুটি সংস্থা গড়ে তোলেন তিনি।

২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর ধরে চলে এই কারচুপি। নিয়ম অনুযায়ী প্রবীণ নাগরিকদের এসব কেন্দ্র থেকে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাকিয়া ও তার চক্রের দালালরা তাদের নগদ টাকার লোভ দেখাতেন। কোনো সেবা না পেয়েও প্রবীণরা শুধু ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করে দিতেন, আর তার বদলে হাতে হাতে পেয়ে যেতেন নগদ ঘুষের টাকা। অন্যদিকে জাকিয়া খান সরকার বা মেডিকেয়ারের কাছে সেবা দেওয়ার ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তুলে নিতেন কোটি কোটি ডলার।গোপন ক্যামেরায় তোলা ভিডিওতে দেখা যায়, জাকিয়া খান নিজের অফিসে বসেই কীভাবে ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন। জানা গেছে, এই কয়েক বছরে তার প্রতিষ্ঠান দুটি প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে সরকার তাকে ৫৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েও ফেলে। প্রতারণার এই বিপুল অর্থ দিয়ে জাকিয়া গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বাড়ি, জমিয়েছিলেন প্রচুর নগদ টাকা ও খাঁটি সোনার গয়না।

তদন্তে সব ধরা পড়ার পর গত বছর জাকিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। বিচারে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ওই ৫৬ মিলিয়ন ডলার সরকারকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার দুটি বাড়ি, নগদ টাকা ও সোনা মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত ৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। প্রবীণ ও অসহায় মানুষের নাম ভাঙিয়ে যারা সরকারের টাকা মারবে, তাদের সবাইকে এভাবেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ



নিউজটি পোস্ট করেছেন : এন.এম.আই.এম নিউজ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে নন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশ

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে নন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশ